হোম / খেলাধুলা / মস্তিষ্কের ক্রিকেটেও হেরেছে বাংলাদেশ

মস্তিষ্কের ক্রিকেটেও হেরেছে বাংলাদেশ

পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচ আড়াইদিনেই হারার লজ্জা জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। শ্রীলংকার জন্য ঘূর্ণিফাঁদ পেতে নিজেরাই সেই ফাঁদে পা দিয়ে ধরাশায়ী। সঙ্গত কারণেই এমন ভরাডুবির কাটাছেঁড়া করাটা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। তিন সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, প্রতিপক্ষ বিবেচনায় সঠিক উইকেট নির্বাচন করা হয়নি। বাংলাদেশের পরিকল্পনাটা ঠিকভাবে ধরতে পেরেছে শ্রীলংকা। সেই সঙ্গে মাঠে নিজেদের পরিকল্পনাগুলোও বাস্তবায়ন করতে পেরেছে তারা ঠিকঠাকভাবে-

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, সাবেক অধিনায়ক

উইকেট একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা বাংলাদেশের জন্য বড় ব্যর্থতা। দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছে প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিন্তু সিনিয়রা নিজেদের দায়িত্ব বিকমতো পালন করতে না পারায় বড় জুটি গড়ে ওঠেনি। জুটি না হওয়ার কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। ম্যাচে রোশেন ডি সিলভা লোয়ারঅর্ডারদের নিয়ে যে জুটি গড়ে তোলে, সেটাই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। এভাবে আমরা ব্যর্থ হব, অনুমান করতে পারিনি আগে।

শ্রীলংকার শক্তি ধরতে না পারা আমাদের টিম ম্যানেজমেন্টের বড় ব্যর্থতা। তাদের জন্য তৈরি করা ফাঁদে আমরা নিজেরাই পা দিয়েছি। স্পিনটা আমরা কেমন খেলি সেটা কিন্তু পরিষ্কার দেখতে পেলাম। একটু বেশি বাউন্স বা টার্নিং উইকেটে আমরা খেলতে পারিনি। আড়াইদিনে হেরে যাওয়ার এটাই কারণ।

খালেদ মাসুদ পাইলট

টেস্ট ম্যাচ হল। কেউ কি বলতে পারবেন, দু’দলের ব্যাটসম্যানরা পুল শট, হুক শট কিংবা ডাক করেছেন বেশি। এসব দেখা যায়নি মিরপুরের উইকেটে। বরং ব্যাকফুট, ফ্রন্টফুট আর ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। উইকেট স্পিন সহায়ক হলে ব্যাটসম্যানরা এই নিয়মে খেলবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন উপমহাদেশের, তখন স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরির সিদ্ধান্ত কি সঠিক হয়েছে? অনেকটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতোই এই বিভ্রম। ঢাকা টেস্টের আগের দিন শ্রীলংকা কোচ হাথুরুসিংহে উইকেট দেখে একাদশে স্পিনারদের প্রাধান্য দেন। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা ঠিকই আঁচ করতে পেরেছেন দূরদর্শী হাথুরু। মাঠের ক্রিকেটের মতো মস্তিষ্কের ক্রিকেটেও হেরেছে বাংলাদেশ।

সাকিবের মতো বিশ্বসেরা ক্রিকেটার খেলেনি। তারপরও মিরপুরে বলতে গেলে খাল কেটে কুমির আনা হল। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আবেদনেও ছিল আÍহত্যার শামিল। মোসাদ্দেকের বদলে একাদশে সাব্বিরকে কেন নেয়া হল, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল।

মোহাম্মদ আশরাফুল

ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা এ ধরনের উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত নই। এ জন্যই ব্যাটিং নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। আমারা হোম কন্ডিশনে খেলেছি, কিন্তু এ ধরনের উইকেটে আমরা খেলি না। হারের পর স্পিনিং উইকেট নিয়ে সবাই সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মাঠেই তো আমরা ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে টেস্ট জিতেছি। সেই চিন্তা থেকেই এই উইকেট করা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের স্পিনাদের চেয়ে শ্রীলংকার স্পিনাররা অনেক মানসম্পন্ন। এটা আমাদের মানতেই হবে।

আমাদের টিম ম্যানেজমেন্টের আরও ভাবা উচিত ছিল। কারণ অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডে বিশেষজ্ঞ স্পিনার শুধু একজন করে লায়ন (নাথান) আর মঈন আলী ছিল। কিন্তু শ্রীলংকা দলে তিনজন ভালোমানের স্পিনার রয়েছে। একজনকে সাবধানে খেললে আরেকজন এসে উইকেট নিয়ে যাবে। হেরাথ যেমন প্রথম ইনিংসে উইকেট পায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নিয়েছে। শ্রীলংকা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে ভালো খেলে বাংলাদেশে এসেছে। সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনে চলে যাওয়ার পরও তারা কিন্তু টেস্টে ভালো খেলে যাচ্ছে। তাদের খাটো করে দেখার উপায় নেই। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরা মোটেই ভালো করতে পারেননি। ব্যাটসম্যানরা ভালো করলে ফলাফল অন্যরকম হতেও পারত।

উত্তর দিন

মন্তব্য করুন!

এর রিপোর্ট করুন