হোম / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / বিজ্ঞানের জন্য একটা দিন

বিজ্ঞানের জন্য একটা দিন

বিজ্ঞানের জন্য একটা দিন

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশে এই তিনটি মাস বিজ্ঞানের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসগুলোতে একের পর এক আয়োজিত হচ্ছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে অলিম্পিয়াড। আর সব বিজ্ঞানের বিজ্ঞান হলো ফিজিকস। তাই চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিজিকস অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি বেশ জোর দিয়ে বলেছি, এই অলিম্পিয়াড বাংলাদেশকে মেধা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে কয়েক ধাপ এগিয়ে নেবে।

আর একটা কথা ছিল আমার। বছরের শেষ ও নতুন বছরের শুরুর এই মহালগ্নে বাংলাদেশের একটি দিন বিশেষভাবে বিজ্ঞানের জন্য উত্সর্গ করা উচিত। সেই দিনটি হবে শুধুই বিজ্ঞানের জন্য নিবেদিত। ভারতসহ অন্য অনেক দেশে এ রকম দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত একটি দিবসও আছে, যা আমরা সেভাবে পালন করি না। করলে তো আমাদের তরুণদের বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ অনেক বাড়বে।

বিজ্ঞানের জন্য একটা দিন

সেদিন ছিল শীতের আমেজের মধ্যে ঝকঝকে রোদ। চট্টগ্রামের ফয়’স লেক। সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফিজিকস অলিম্পিয়াড। মূল আকর্ষণ ছিল তরুণ শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস। তাদের প্রত্যেকের ভেতর সুপ্ত প্রতিভা। ওরা আগামী দিনের বিজ্ঞানী।
তাই আমাদের কাছে সেটা শুধু জাতীয় ফিজিকস অলিম্পিয়াডই ছিল না, ছিল উদীয়মান বিজ্ঞানীদের সমাবেশ। পরীক্ষার পাশাপাশি ছিল উত্সবমুখর পরিবেশ। চারদিকে সবুজের সমারোহ। লেকের পাশে ডেস্কে বসে পরীক্ষা। অকল্পনীয়! এই সবকিছু পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি অংশগ্রহণকারীদের আকর্ষণ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞানের জন্য একটা দিন

আমাদের চাই বিজ্ঞানমনস্ক তরুণ সমাজ। এটা খুব দরকার। তার মানে, সবকিছু যুক্তি দিয়ে বোঝা, উপলব্ধি করা ও করণীয় নির্ধারণে আজকের তরুণদের সক্ষম হতে হবে। প্রতিদিন বিশ্বের কোথাও না কোথাও নতুন নতুন গবেষণার সূচনা ঘটছে। তার ফলাফল আমাদের তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়া দরকার। কে সেই দায়িত্ব নেবে? আমাদের সবাইকে নিতে হবে। সবচেয়ে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে তরুণদেরই।অলিম্পিয়াড সেই জ্ঞনভান্ডারে প্রবেশের স্বর্ণদ্বার। আজ তাই ফিজিকস, গণিত, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা অলিম্পিয়াডের আয়োজন করছে। আর সেখানে যোগ দিচ্ছে হাজার হাজার তরুণ। তারুণ্যের উদ্যম আমাদের সামনে এক নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে।

বিজ্ঞানের জন্য একটা দিন

এই প্রথম ঢাকার বাইরে জাতীয় ফিজিকস অলিম্পিয়াড হলো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত অলিম্পিয়াডে নির্বাচিত হয়ে প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছে ৬০০-এরও বেশি প্রতিযোগী। ঢাকার বাইরে এ রকম আয়োজন বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। সবকিছু খুব সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফিজিকস অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় কমিটির এই আয়োজন সবার উত্সাহ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাগাজিন পার্টনার ছিল বিজ্ঞানচিন্তা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকেরা ছিলেন উদ্যোক্তাদের প্রথম সারিতে। আর কী চাই?
তবে কনকর্ড যদি তাদের ফয়’স লেক রিসোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা না দিত, তাহলে হয়তো অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী তরুণ প্রতিযোগীদের গুরুগম্ভীর পরিবেশেই সাদামাটা একটা পরীক্ষা দিয়ে ফিরতে হতো। তাদের কাছে হয়তো বিজ্ঞান সেই রসকষহীন বিষয় হয়েই থাকত।
কিন্তু আসলে তো তা হয়নি। সবাই আনন্দের মধ্য দিয়েই উত্সব ও অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছে। তবে সবচেয় খুশি হয়েছেন অভিভাবকেরা। তাঁরাই তো শত অসুবিধা উপেক্ষা করে সন্তানদের নিয়ে এসেছেন। না হলে কি অলিম্পিয়াড সার্থক হতো। তাই অভিভাবকদের জানাই শত অভিনন্দন।

উত্তর দিন

মন্তব্য করুন!

  Subscribe  
এর রিপোর্ট করুন
x

Check Also

মিথ্যা ধরার নতুন যন্ত্র

মিথ্যা ধরার নতুন যন্ত্র

সম্ভাব্য অপরাধীকে জেরার সময় তদন্তকারীরা কখনও ‘লাই ডিটেক্টর’-এর সাহায্যে মিথ্যা বক্তব্য শনাক্ত ...